নতুন মোবাইল ফোন 2022 দাম | কোন মোবাইলের দাম কত | মোবাইল বাজার মোবাইলের দাম ও ছবি 2022 | কম দামে ভালো ক্যামেরা ফোন ২০২২ | ৬০০০ টাকার মধ্যে ভালো ফোন ২০২2 বাংলাদেশ | পুরুষাঙ্গ বৃদ্ধির ক্রিম | পুরুষাঙ্গপুরুষাঙ্গ বৃদ্ধির ট্যাবলেট | লিংগ ছোট হলে কি সমস্যা যৌন বিষয়ক টিপস্ | নতুন অ্যাপস ভিপিএন ব্যবহারের নিয়ম | গেমের জন্য কোন ভিপিএন ভালো | Free fire এর জন্য কোন vpn ভালো | টেকনোলজি বিষয় টিপস ।। অনলাইথেকে টাকা ইনকাম । খেলা ধুলা । cricket খেলা বাংলাদেশ । সাধারন জ্ঞান |সাধারন সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান

ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০২২

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত: কক্সবাজার



 বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ।  এই দ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হল কক্সবাজার।  এটি বিশ্বের এবং বাংলাদেশের দীর্ঘতম পর্যটন কেন্দ্র।  প্রতি বছর দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে ভিড় জমায়।  কক্সবাজার এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি একই সাথে পাহাড়, সমুদ্র, নদী এবং সমতল ভূমি দেখতে পাবেন।  এই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়।  বর্তমানে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।  যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  সৈকত কী:

  সমুদ্র সৈকত হল এক ধরনের ভূতাত্ত্বিক ভূখণ্ড।  যা একটি জলের শরীরের পাশে বিকশিত হয়।  ভূমির যে অংশ সাধারণত সমুদ্র দ্বারা গঠিত হয় তাকে সৈকত বলে।  যেসব জায়গায় বাতাসের স্রোত এবং সমুদ্রের স্রোত কার্যকর, সেখানে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সৈকত তৈরি হয়।


  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত:


  এই বাংলাদেশ আমাদের অপূর্ব সৌন্দর্যের সবুজ ভূমি।  আর এই সৌন্দর্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয় সমুদ্র সৈকত।  দেশের উল্লেখযোগ্য সমুদ্র সৈকত হল কক্সবাজার ও ইনানী, পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা এবং চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা।  এর মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত।  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার।  এর একটি বৈশিষ্ট্য হল পুরো সৈকতটি বালুকাময়।  কাদার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

  অবস্থান:

  কক্সবাজার বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে প্রায় 155 কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত।  এটি একটি জেলা শহর।  বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এই শহরে অবস্থিত।  যা কক্সবাজার শহর থেকে বদর মোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কিলোমিটার বিস্তৃত।  ইনানী সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে 25 কিলোমিটার দূরে এবং 8-10 কিলোমিটার দক্ষিণে হিমছড়ি।

  ইতিহাস:

  প্রতিটি স্থানের নামের পিছনে একটি ইতিহাস রয়েছে।  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইতিহাস 1897 সালে বার্মার (মিয়ানমার) আরাকান অঞ্চলে বিপর্যস্ত হয়েছিল বলে জানা যায়।  ফলে সেখান থেকে বাঙালিদের বিতাড়িত করা হয়।  এই নির্বাসিত বাঙালিরা বর্তমান কক্সবাজার, উখিয়া, গুনদুমসহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়।  সে সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাষ্ট্রদূত ক্যাপ্টেন কক্স বার্মার রাজদরবারে কর্মরত ছিলেন।  কোম্পানির নির্দেশে তিনি উদ্বাস্তুদের তদারকি ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য কক্সবাজারে ছুটে যান।  তখন পুরো এলাকা মশা আর বনে ভরা ছিল।  বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানুষ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।  ক্যাপ্টেন কক্স এমন পরিবেশে অস্বস্তি বোধ করলেও শরণার্থীদের ছাড়েননি।  বরং তিনি তাদের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।  তখন এই সমুদ্র তীরটির নাম ছিল 'ফলকিং'।  1802 সালে ক্যাপ্টেন কক্স এখানে মারা যান এবং তার নামানুসারে স্থানটির নামকরণ করা হয় কক্সবাজার।

  বর্ণনা:

  পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার।  বিধাতা যেন বালিতে ঢেলে দিয়েছে বাংলার সব রূপ।  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ করলেই শোনা যায় সাগরের গর্জন।  এই সৈকতে দাঁড়িয়ে আপনি সূর্যাস্তের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।  লাল কাঁকড়া প্রায়ই বালির উপর দেখা যায়।  গভীর জলে মাছ ধরা থেকে জেলেদের ফিরে আসার দৃশ্য সত্যিই আশ্চর্যজনক।  বালিয়ারী সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন শামুক ও ঝিনুক এবং প্রবাল সমৃদ্ধ শপিংমল, অত্যাধুনিক হোটেল, মোটেল, কটেজ, সুপরিচিত বার্মিজ মার্কেট এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত।  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অনেক পয়েন্ট রয়েছে।  এগুলো হলো লাবনী পয়েন্ট, সি ইন পয়েন্ট, কলাবতী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, বালিকা মাদ্রাসা পয়েন্ট ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট।  এর মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ লাবনী পয়েন্ট।  এখান থেকে আপনি বিস্তীর্ণ সৈকত, ঝাউবনের সারি এবং সমুদ্রে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ দেখতে পাবেন।  লাবনী সমুদ্র সৈকত থেকে আপনি সোজা পূর্ব দিকে হেঁটে হিমছড়ির দিকে যেতে পারেন।  এছাড়া কক্সবাজারের আশপাশে রয়েছে বৌদ্ধ যুগের বহু প্রাচীন নিদর্শন।  এখানকার প্যাগোডাগুলো খুবই দর্শনীয়।  এটিতে একটি আবহাওয়া অফিস, একটি বাতিঘর রয়েছে এবং মারমা এবং রাখাইন সহ অনেক উপজাতির বাসস্থান রয়েছে।

  গুরুত্ব:

  কয়েক বছর ধরে বার্নার্ড ওয়েবারের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সংস্থা, সুইজারল্যান্ডের নিউ সেভেন ওয়ান্ডারস ফাউন্ডেশন দ্বারা 2000 সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব প্রাকৃতিক বিস্ময় বাছাই প্রতিযোগিতার শীর্ষে রয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।  এই সমুদ্র সৈকত সারা বিশ্বে বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।  এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন এ দেশে।

  বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র:


  বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  এটি বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর স্থান।  পর্যটকদের বিনোদনের জন্য রয়েছে স্পিড বোট, বিচ বাইক ও ওয়াটার স্কুটারসহ নানা সুযোগ-সুবিধা।  তবে সম্প্রতি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বিনোদনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।  আকাশে ওড়ার জন্য প্যারাসুট চালু করা হয়েছে।  এছাড়াও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে বিশেষ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কনসার্ট ও খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে।


  অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান:


  বর্তমান বিশ্বে পর্যটন একটি বিলিয়ন ডলার শিল্পের মাধ্যম।  শতাব্দীর সেরা শিল্প এবং বিশ্বের বৃহত্তম শিল্প হল পর্যটন।  পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও।  পর্যটন শিল্প এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।  তবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের কথা ভাবা যায় না।  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রধান আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।  এই সৌন্দর্যের কারণে প্রতি বছর বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশে আসেন।  কক্সবাজারের সবুজ প্রকৃতি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ।  পর্যটনের ক্ষেত্রে, এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য সম্ভাব্য দাবি করে।  এখানকার প্রাকৃতিক নির্জনতা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।  এ কারণে এই পর্যটন শিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।  বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে।  নিঃসন্দেহে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেশের জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  বিভিন্ন সমস্যা:


  পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার নিয়ে আমরা গর্বিত।  কিন্তু এই সৈকতে প্রবেশ পথের অবস্থা খুবই নাজুক।  আন্তর্জাতিক মানের পরিপ্রেক্ষিতে এর মর্যাদা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে বসে থাকতে হয়।  আবার সমুদ্রতীরের অবস্থা দেখলে মনে হবে লুটের রাজত্ব।  যেন একদল প্রভাবশালী দস্যু দল জলদস্যুদের ধরার কাজে নিয়োজিত।  এখানে অবৈধভাবে বড় বড় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।  এভাবে সৈকতে ভবন নির্মাণ করা হলে তা একদিন ঘন বস্তি সৈকতে পরিণত হবে।  পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, যত্রতত্র আবর্জনা ছড়ানো, অনুন্নত পরিবহন ব্যবস্থা ইত্যাদিও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কিছু সমস্যা।


  সমাধান:


  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সংক্রান্ত সমস্যা রাতারাতি সমাধানের কোনো উপায় নেই।  যাইহোক, এখানে একটি অনুকূল, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে-


  - দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


  - পুরো শহরকে আইনশৃঙ্খলার আওতায় আনা।


  - একটি প্রশস্ত বাইপাস রাস্তা তৈরি করুন।  যা ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের সাথে যুক্ত হবে।


  - কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।


  - কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের করার জন্য একটি পৃথক সংস্থা গঠন করা।


 


  কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী:


  বর্তমানে সৈকতের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  তারা বিভিন্ন জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবসে উন্মুক্ত কনসার্ট, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বীচ ফুটবল, বিচ ভলিবল, ক্রিকেট প্রতিযোগিতা, জাতীয় ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন করে থাকে।  সরকার দেশের পর্যটন শহরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য আগস্ট 2009 সালে ট্যুরিস্ট পুলিশ নামে একটি পৃথক ইউনিট গঠন করে।  বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্ব পালনের জন্য ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।



  বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে বাঙালির গর্বের শেষ নেই।  এটি যেমন বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রস্থল তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।  প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমনে উৎসবের আমেজ তৈরি হচ্ছে।  এভাবেই বর্ণিল ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ।  তাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পৃষ্ঠাসমূহ