আপনার চেতনা করা একটা বীজ। বঙ্গজননী সে বীজ বুনে বরটি দামাল ছেলের পাগল বুকে। এই পাগলদের বুকেই সেই বীজের অঙ্কুরদগম থেকে ওঠা। এটি তাদের শিখিয়েছে বলেছে আলো ছড়াতে আর সে আলোর পথ হাত ধরে ধরেছে। এই বীজ বপনকারী বঙ্গজননীর প্রতি বিনিময়ে কালো হাতে গুঁড়িয়ে ফেলুন। এই চেতনা। এ চেতনা মন্ত্র শেখায়, মন্ত্রে দীক্ষা দেয়। সেমন্ত্র বিষমন্ত্র, সে মন্ত্র বারুদ ছাড়াই বু জ্বালায় মুক্তিপাগলদেরকে, প্রতীক। এ চেতনা সকলকে একই ধ্যানের মৃণাল ধরে ধরে উঠতে সহায়তা করে।
একই সুরের মুর্ছনায় চেতনার সুর মুর্ছিত হয়। একই হুঙ্কের ঝংকারে আকাশ কাঁপিয়ে প্রতিপক্ষের ঔদ্ধত্যকে গুঁড়িয়ে দেয় নিমিষেই। কর্ণকুঁড়ে একই স্বপ্নে সুলিত সঙ্গীত শুনতে, অগ্নিঝরা প্রতীকের প্রতিশোধ স্পহার স্ফুলিহর শুনতে শ্রাতে জন্ম দিতে পারে। আবালবৃদ্ধবণিতা যখন একই পতাকার ছায়া জড়ো হওয়া শয় পথ তাকে পতাকার সম্মানের জন্য তখন চেতনা। এই চেনার রঙে রঙিন হওয়া বাঙালি স্বাধীন স্বাধীনপাগল ছেলেতে জয় পাওয়ার বিজয়-শিরোপা।
যার জন্য: অফুরন্ত শ্যামার চাদরে ঘা এক অনিন্দ্যসুন্দর ভূমিখন্ডে বাস করি আমরা। সবুজ সবুজের ঢেউ-দোলানো নৃত্য, রাতের আলো-আধারে আধারে ভরিয়ে দেয় আমাদের। ঘূঘু ঘুঘু ডাটাকা সীমান্ত যখন মাঠের কৃষক চাষের তাকায়, তখন ঘূর্ণি আর যুদ্ধি না থাকে। দোয়েলের চিরচেনা সুর মনে করি, এ তোমার প্রিয় দেশ। বড় মমতার সে দেশ। পার্টি একদল বুনো শকুন ভুলের বশবর্তী হয়ে এই মমতার আঁচল ধরে টান দিয়েছিল খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু এই মমতার আঁচল ঘুমিয়েছে যে বাংলা, তারা বড় বেশি লোভী। সে লোভ মমতার সেই আঁচল চিরদিন ঘুমিয়ে থাকা। সেজন্যই তারা ঐ শকুনের ছোবল থেকে এই দেশকে মুক্ত করার জন্য মরিয়া ছিল। দেশমাতৃকার জন্য এই চেতনাই মুক্তির নেপথ শক্তি।
কামনায় স্বরুপী মাতৃভূমি: যখন মাতৃভূমি বুকে তখন মনে হয় বুকে বুকে আছি। আবেগ সকল কষ্টপিড়ার সামনে ঢাল সে বুক। বড় প্রশস্ত, সবুজ আর কাদা-মাটি-জলে মাখামাখি সে বুক। তৃষ্ণায় সে শীতল পরশবুলিয়ে দেয়। তৃপ্তির আরও বেশি তৃপ্তি দেয়, সুখের আরও বেশি সুখ। মর্ত্যরেধুর স্বর্গরূপী এই দেশ রূপোরস-মর লোভে সেই প্রাচীনকালটা লালপাতাল ছিল পর্তুজ মারাঠা, মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন, তুর্কী, মোঘল, অন্যান্য প্রভৃতি জাতি।
আপনার প্রেক্ষাপট: ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের উপর থেকে প্রকাশিত কালো ছায়াও বাংলার ভাগ্যাকাশ মেঘমুক্ত হয়েছে। সে আকাশে ছায়া পড়ে পশ্চিম সাকিব আর একদল কইয়ের। ওরা প্রত্যক্ষ-প্রোক্ষ, যৌক্তিক-অযৌক্তিক উপায়ে সরকার মোড়কে পেঁচিয়ে শোষণ করেছে বছর পর বছর ধরে। ২৪ বছর শোষণ-বঞ্চবনার জাল আমি সাড়ে বাংলা জাতি গঠন চাই ১৯৭১ সালে। নির্ঙ্কশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও ক্ষমতার হস্তান্তরে চেষ্টা করতে হয় পশ্চিম পাকিস্তানের কাল। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ বাঙালি স্বাগত ও স্বাধীনতার স্বাধীনতা সংগ্রাম লিপ্ত হয়।
ভাষা আন্দোলন-চেতনার প্রথম সোপান: ১৯৪৭ অযৌক্তিক দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রপক্ষের রাষ্ট্রের জন্ম দেয়, যা পূর্ব পশ্চিম-দুই খন্ডে বিভক্ত ছিল। পশ্চিমের কাছে স্বাচ্ছন্দ্যের কাছে সকলের কাছ থেকে আর নর শিকার হতে থাকে পূর্ব পাকিস্তান বং বাংলাদেশ। এই বঞ্চনার প্রথম চিত্র তারা এঁকে দেয় মাতৃভাষার বুকে। তারা বাংলাকে প্রতিস্থাপিত করতে চায় উর্দু ভাষার মাধ্যমে। কিন্তু ১৯৫২ গত ২১ আখের ভাষা আন্দোলনে রফিক, শফিউর, বরকত, সালাম, জবার প্রমুখ একঁক শক্তিবন্ত তরুণের জীবন তেজে ঝলসে তাদের সে চাওয়া। বাংলা প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রভাষা হিসাবে।
পূর্ববর্তী পূর্বের চেতনা: ১৯৫৪ পূর্বে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ১৯৬ বার বার দফা দাবী ৬৯ বার গণভ্যুত্থান, ১৯৭০ সাধারণ পূর্বের চেচে সংখ্যাগরিষ্ঠ সকল গণ অসাধারণ এক আয়োজন করা। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা পশ্চিমারা সক্ষমতা হস্তান্তরে তালহানার শান্তি নিলে সে চেতনা উষ্ণ ভরে ভরসা।
মনের চেতনা ও: সকল বঞ্চনায় বঞ্চিত হতে ১৯৭১ এ এসে বাংলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তাদের শাশ্বদমিত মনোবলকে অবলোকন দিতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিকষ কালো রাত পশ্চিমা নরপিচগুলো হামেলে পড়ে ঘুমিয়ে বিরপাপ নিরস্ত্র বাংলার ওপর। শুরু হয় বাংলার ঝড়ো হাওয়া আর পশ্চিমাদের উড়ে। গুরুত্বপূর্ণ শেখ পরবর্তী দেন। এই বহিঃপ্রকাশ দেশকে নামিয়ে আনে রণক্ষেত্রে। পরিপূর্ণ বিজয়ী পাবারগ্গ্ পর্যন্ত বাংগালী শক্ত হাতে ধরে স্টেনগান, বুকে ধরে অগ্নিকাণ্ড চেত, আর ঝগড়া সমীপে বিছিয়ে স্বাধীন বাংলার রঙিন ক্যানভাস। সেনভাসে প্রকৃতি আর রক্তের আঁচড়ে-সবুজ পতাকা আঁকতে সকাল সকাল। পর পর বাংলা দেখল সূর্যোদয়। তিরিশ শহিদ আর দুইটি কেনা মা-বোনের ইজ্জত দিয়ে সে সূর্যোদয়।
সাহিত্য সংস্কৃতি ও চেতনা: রাজনীতি সাহিত্য সংস্কৃতির চেতনাকে অনেক বেশি গ্রহণ করেছে, চেতনা দ্বারা উপলব্ধি করা হয়েছে এবং এখনও। গণ শক্তি কালে রচিত কবিতা ও গান যোদ্ধাদের মনের শক্তি অনেক শক্তি শক্তি। চেতনায় লাগিয়ে নতুন রং, উদ্দীপনার জন্য নতুন গতি। রক্তের নদী জাগেছে আলোর নাচন। বর্তমান বর্তমান সাহিত্য সংস্কৃতির একটা বড় অংশ আছে চেতনা।
আপনার চেতনার পরিসর: আপনার চেতনা এমন এক চেতনা, জীবনের সবগুলো অংশ যার অবস্থান। ব্যক্তি-স্বাধীন, নারীমুক্তি, স্বাধীনের স্বাধীন, সামপ্রদায়িক সম্প্রীতি, সাম্য, মুক্তিসহ সবক্ষেত্রে চেনা ফলিত হলে দেশের উন্নয়নের ধারা আর পিছিয়ে না। বিজয়ের মতই জীবনের প্রতিক্ষেত্রে বাবে বিজয়ের একাকী ঘন্টাধ্বনি।
বর্তমানের চেতনা: লক্ষ্যে বাঙালি আত্মোৎসর্গ করেছে। এক অনন্যসাধারণ স্বপ্ন বুকে নিয়ে। সে স্বপ্ন সুখী, সুখী, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু অনুতাপের বিষয়টি যে, শহিদদের সে স্বপ্ন আজ স্বপ্নভঙ্গের পথ। যে চেতনাবোধের পথের আলো জ্বলে উঠেছিল, আমরা সে পথ থেকে অনেকটাই সরল আলোকিত। সাম্প্রদায়তা অসাম্য, অর্থনৈতিক-সাজিক বৈষম্য, নকাররাজ্য, বে, আর অশিক্ষা-কুশিক্ষার চটেপাঘাতে সার্বিক উন্নয়ন উন্নয়নের দেওয়াল। এই পরিস্থিতির চেতনার বিপরীত অবস্থানে অবস্থান করছে।
চেনারস্ফুটন: ব্যাহত আমাদের চেতনার উপেক্ষা জাতীয় জীবন মসন পথচলা করে, রুদ্ধ করে দেয় সকল উন্নয়নের দুয়ার। তাই জীবনকাশের সাদা-কালো মেঘের ভাঁজে ভাঁজে মেলে দিতে হবে সে চেতনার ডানা। দেশটি ভাল যত্নে ভালোবাসা দিতে হবে দেশপ্রেমের রং। তাহলে সে চেতনা আবার ফুটবে, বিশিট হবে নিবিড় পরিচর্যা।
আপনার চেতনা অপার মহিমান্ডিত এক চেতনা। এই চেতনাকে নাগরিকের বুকে পরম মমতার লালন করা উচিত। অনেক ভালোর এক অপরূপলীলা ভূমি বাংলাদেশকে পরিপূর্ণ কালিমা মুক্ত করে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া দিতে এই চেতনার বিকল্প নেই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন